বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের হলে ছাত্রলীগ নেত্রী কর্তৃক ছাত্রীকে র্যাগিংয়ের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর আগে ২৩ আগস্ট রাতে ছাত্রী হলের ৬০৬ নম্বর কক্ষে তৃতীয় ব্যাচের এক ছাত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ডেন্টাল ৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা রওশন প্রভা, সহ-সম্পাদক ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নীলিমা হোসেন জুঁইয়ের নেতৃত্বে তাকে র্যাগিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। র্যাগিংয়ের ঘটনা জানাজানি হলে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহ করতে মেডিক্যাল কলেজে যান। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বক্তব্য নেওয়ার সময় কলেজের দুই জন শিক্ষকের নেতৃত্বে ছয় জন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় একটি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশের মধ্যস্থতায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক নেতারা আলোচনায় বসেন। সেখানে হামলাকারী দুই চিকিৎসক সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান।
নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়া ছাত্রীর মা রোববার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বলেন, এ ঘটনায় দুপুর ১২টার দিকে কলেজ প্রশাসন তার মেয়ে ও অন্য এক ছাত্রীকে ডেকে ঘটনা সম্পর্কে তাদের বক্তব্য নেয়। প্রশাসন তার মেয়েকে মানসিক রোগের চিকিৎসকের কাছে পাঠায়। ওই ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন, নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্রীকে কলেজ প্রশাসন থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তোমরা চিকিৎসা চাও, নাকি বিচার চাও? যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার জন্য বলা হয়। আমরা বলেছি, আমরা দুটোই চাই।
নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন আমার মেয়েকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণ করার চেষ্টা করছে তারা। কলেজ প্রশাসন যখন দুই ছাত্রীর বক্তব্য নিচ্ছিল, নির্যাতনকারীরা তখন বাইরে অবস্থান করে হাসাহাসি করছিল। কলেজ প্রশাসনের এমন আচরণে আমরা হতাশ হয়েছি। মেয়ের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।
এদিকে, শনিবার বিকেলে তদন্ত কমিটি গঠন ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। রোববার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ নাজিমুল হক। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে কলেজের অধ্যাপক উত্তম কুমার সাহাকে। বাকি তিন সদস্য হলেন সহযোগী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহা, প্রভাষক অনিকা বিশ্বাস ও জহিরুল ইসলাম। তাদেরকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
উপাধ্যক্ষ নাজিমুল হক বলেন, ‘র্যাগিংয়ের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সোমবার থেকে তারা কাজ শুরু করবে। আশা করছি, তদন্তে আসল তথ্য বের হয়ে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় হলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এতে করে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না কমিটির সদস্যদের।’
কলেজের হল সূত্র জানিয়েছে, বরিশালের এক আওয়ামী লীগ নেতার মদতে হলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে যারা ছিলেন তারা নিজেদের ছাত্রলীগ নেত্রী বলে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ জানার পর কলেজের অধ্যক্ষকে জানান, সেখানে ছাত্রলীগের কোনও কমিটি নেই। এরপর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি বাতিল করা হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ ফয়জুল বাশার বলেন, ‘ভুল-বোঝাবুঝি থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছিল। উভয় পক্ষ বসে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’
অভিযুক্ত ছাত্রী নীলামা হাসান জুই সাংবাদিকদের বলেন, এটা মিথ্যা অভিযোগ। এ বিষয় নিয়ে কথা বলার মতো মানসিক অবস্থা আমার নেই।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply